মক্কায় জন্মগ্রহণ করেও সাঁতার জানতেন যে সাহাবি, তিনি হলেন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু।
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি এবং ইসলামের ইতিহাসে সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।
নবুওয়াতের প্রাথমিক সময়ে মক্কার নির্যাতন থেকে বাঁচতে একদল মুসলিম হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ নাজ্জাশী তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। একসময় হাবশায় নাজ্জাশীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। মুসলিম মুহাজিররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ নাজ্জাশী পরাজিত হলে তাঁদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারত।
যুদ্ধ চলছিল নীল নদের ওপারে। সাহাবিরা যুদ্ধের খবর জানার জন্য এমন একজনকে খুঁজছিলেন, যিনি নদী পার হয়ে পরিস্থিতি দেখে ফিরে আসতে পারবেন। তখন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) এগিয়ে এসে দায়িত্বটি নিতে রাজি হন।
সাহাবিরা তাঁকে একটি চামড়ার মশক দেন। তিনি সেটি অবলম্বন করে নীল নদ সাঁতরে পার হন এবং যুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। নাজ্জাশী বিজয়ী হলে যুবায়ের (রা.) নদী পেরিয়ে ফিরে আসেন এবং আনন্দের সঙ্গে সাহাবিদের বিজয়ের সুসংবাদ জানান। উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নাজ্জাশীর বিজয়ের খবরের চেয়ে আনন্দের কোনো সংবাদ তখন মুহাজিরদের কাছে বড় ছিল না।
রেফারেন্সঃ-
১. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, মুসনাদু উম্মি সালামা (রা.), হাদিস নং ১৭৪০।
২. ইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/৩৩৮–৩৪০।
৩. ইমাম বায়হাকী, দালাইলুন নবুওয়াহ, ২/৩০১–৩০৩।
৪. ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৩/৭৫–৭৭।