মেয়েদের শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট সাধারণত কোমর বা উরুর নিচে জমা হলেও, ছেলেদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই অতিরিক্ত ক্যালোরিকে পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর চারপাশে (Visceral Fat) জমা করে।
পুরুষের পেটে মেদ জমার প্রধান কারণসমূহঃ
* হরমোনের প্রভাব ও টেস্টোস্টেরন: পুরুষদের শরীরে ফ্যাট বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে টেস্টোস্টেরন হরমোন। বয়স ৩০ পার হওয়ার পর কিংবা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায় এবং চর্বি সরাসরি পেটে জমতে থাকে।
* অতিরিক্ত শর্করা ও ক্যালোরি গ্রহণ: প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত সাদা ভাত, রুটি, চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্টফুড এবং কোমল পানীয় থাকলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। শরীর তখন এই বাড়তি শক্তিকে দ্রুত পেটের চর্বি হিসেবে জমা করে।
* মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম: দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ (Stress) এবং রাত জাগার অভ্যাসের ফলে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। কর্টিসল সরাসরি পেটের ভেতরের ভিসেরাল ফ্যাট কোষগুলোকে চর্বি ধরে রাখতে উদ্দীপ্ত করে।
* কায়িক শ্রমের অভাব: ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটাচলা না করার ফলে প্রতিদিনের গৃহীত ক্যালোরি খরচ হয় না, যা পেটের মেদে রূপান্তরিত হয়।
* বয়স ও পেশী ক্ষয়: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছেলেদের শরীরের পেশী বা মাসল মাস (Muscle Mass) স্বাভাবিকভাবে কমতে থাকে। পেশী কমে গেলে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতাও কমে যায়, ফলে আগের মতো খাবার খেলেও পেটে মেদ জমে।
* জেনেটিক্স বা বংশগত কারণ: পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যদের পেটে মেদ জমার প্রবণতা থাকলে জেনেটিক কারণেই পেটের আকার দ্রুত বাড়তে পারে।
তাই আপনি যদি আপনার পেটের অতিরিক্ত মেদ বা ভুরিকে কমাতে চান তাহলে শুধুমাত্র ব্যায়াম বা খাবার খাওয়া কমালেই হবে না, উপরের সব বিষয়গুলোর উপরেই নজর দিতে হবে।