61 বার দেখা হয়েছে
"জীবনী" বিভাগে করেছেন
কবি লুকাইয়া তাজনুর তোহফার সংক্ষিপ্ত কবি পরিচিতি জানতে চাই 

2 উত্তর

0 জনের পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
পূর্বে করেছেন
কবি পরিচিতি

লুকাইয়া তাজনুর তোহফা ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। দশম শ্রেণি থেকে তাঁর লেখালেখির যাত্রা শুরু। তাঁর লেখা প্রথম আলো, জাতীয় দৈনিক অভয় নগর, দৈনিক নোয়াখালীর কথা, দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক জনতার খবর, The Paris Mail, স্বপ্ন ২৪ ডট কম, সাহিত্যকথন, লেখাদূত, বর্ণরীতি ও মাসিক বাহান্নসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অংশগ্রহণে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ দুটি হলো নীরবতার ভাষা ও আচ্ছাদিত বিকেল নির্ঘুম। তিনি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ এবং মেধা অন্বেষণ প্রকাশ থেকে লেখক সম্মাননা সনদ লাভ করেছেন। অনুভূতি, স্মৃতি ও জীবনের নানা উপলব্ধি তাঁর লেখার প্রধান অনুপ্রেরণা।
0 জনের পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
পূর্বে করেছেন

কবি লুকাইয়া তাজনুর তোহফার কবি পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী 

লুকাইয়া তাজনুর তোহফা বাংলাদেশের কক্সবাজারের একজন কবি ও লেখক। ব্যক্তিজীবনের অনুভূতি, শৈশবের স্মৃতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবন সম্পর্কে নিজস্ব উপলব্ধি তাঁর লেখালেখির জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ তৈরি হয় এবং কৈশোরে শুরু হয় তাঁর লেখালেখির পথচলা। ব্যক্তিগত অনুভব ও অভিজ্ঞতাকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করাই তাঁর সাহিত্যচর্চার অন্যতম অনুষঙ্গ।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, এক ঝড়ো সন্ধ্যায় কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ায় এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লুকাইয়া তাজনুর তোহফা। তাঁর বাবা ছিলেন প্রবাসী এবং মা গৃহিণী। তিন বছর ব্যবধানে জন্ম নেওয়া তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

পরিবারে তিন মেয়ে জন্মালেও কারও মনে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ ছিল না। তাঁর দাদির ছিল তিন ছেলে, কিন্তু কোনো মেয়ে ছিল না। তাই একের পর এক নাতনির আগমনে তিনি আনন্দিত হতেন। তোহফার নাম রেখেছিলেন তাঁর ছোট মামা। তাঁর বড় দুই বোনের নাম রুনা ও রুপা। নাম দুটির মধ্যে মিল থাকায় তৎকালীন একটি লোকবিশ্বাসের কথা ভেবে দাদি তাঁকে ‘তোহফা’ না ডেকে ‘মিনু’ বলে ডাকতেন। প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, বোনদের নামের মধ্যে মিল থাকলে পরিবারে আর ছেলে জন্মায় না। দাদি আশা করেছিলেন, তাঁর এই নাতনির পর হয়তো একটি নাতির আগমন ঘটবে। সেই থেকে দাদা-দাদির কাছে তিনি ‘মিনু’ নামেই পরিচিত; পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে তিনি ‘তোহফামনি’।

তাঁর জন্মের সাত বছর পর ছোট ভাই তানবির ইসলাম রায়হানের জন্ম হয়। ভাইয়ের আগমনে পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশাও পূরণ হয়।

শৈশব ও মায়ের স্নেহছায়া

তোহফার জীবনের প্রথম পাঠশালা ছিল তাঁর মায়ের কোল। আমপারা, আরবি শিক্ষা ও নামাজের প্রাথমিক পাঠ তিনি মায়ের কাছেই গ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় নামাজ শেষে মা তাঁকে পড়াতে বসতেন। ছোটবেলায় তাঁর পরনে থাকত হাফপ্যান্ট; মা নিজের শাড়ির আঁচল তাঁর পায়ের ওপর বিছিয়ে দিতেন, যেন পা অনাবৃত না থাকে। মায়ের সেই আঁচলের ছায়াতেই অক্ষর চেনার প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল।

তিন বোনকে সঙ্গে নিয়ে মা একসঙ্গে নামাজ আদায় করতেন। স্কুলের পড়াশোনার জন্য বাড়িতে শিক্ষক থাকলেও আরবি শেখানোর দায়িত্ব মা নিজেই পালন করতেন। এভাবেই তাঁর শৈশবের সঙ্গে মিশে আছে মায়ের স্নেহ, ধর্মীয় শিক্ষা ও শৃঙ্খলার স্মৃতি।

ছোটবেলায় তাঁর চেহারা ছিল মারমা মেয়েদের মতো। একদিন নতুন এক প্রতিবেশী তাঁকে দেখে মন্তব্য করেছিলেন, “মুসলমানের ঘরে মগের মেয়ে কোথা থেকে এল?” কথাটি শিশুমনে গভীর আঘাত করেছিল। সেদিনের কান্না ও কষ্টের স্মৃতি আজও তাঁর মনে রয়ে গেছে।

শৈশবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক, ভীতু ও অন্তর্মুখী। অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার চেয়ে একা খেলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। বালু ও পাতা দিয়ে হাঁড়িপাতিলের সংসার সাজাতেন। মা তাঁর জন্য মাটির চুলা ও ছোট ছোট ডেকচি তৈরি করে দিতেন। বাড়িতে অপরিচিত কেউ এলে তিনি দরজার আড়ালে লুকিয়ে পড়তেন। মায়ের চোখের সামান্য রাগী চাহনিতেও কেঁদে ফেলতেন।

বাবা কখনো তাঁর গায়ে হাত তোলেননি, যদিও বড় বোনেরা শাসনের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের বাধ্য সন্তান। মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন; রান্নার জন্য রসুন ছিলে দেওয়া কিংবা বিচি বেছে দেওয়ার মতো ছোট ছোট কাজেও মায়ের পাশে থাকতেন। পুতুল নিয়ে সংসার সাজানোর যে প্রবণতা শৈশবে ছিল, বড় হয়েও নিজের একটি সুন্দর সংসার গড়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে রয়ে গেছে।

শিক্ষাজীবন

চার বছর বয়সে বড় বোনদের হাত ধরে তাঁর বিদ্যালয়জীবন শুরু হয়। পড়াশোনায় তিনি বরাবরই ভালো ছিলেন। সাধারণত শ্রেণিতে তাঁর অবস্থান থাকত দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে। জীবনে কখনো প্রথম হতে না পারার একটি আক্ষেপ তাঁর আছে; তবে পড়াশোনায় কখনো শেষের সারিতেও তাঁকে থাকতে হয়নি।

তিনি আবু বক্কর ছিদ্দিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পিএসসি পরীক্ষার পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সরকারি গার্লস হাই স্কুলে সাক্ষাৎকার দিলেও সেখানে সুযোগ পাননি। পরে ভর্তি হন পৌর প্রিপ্যারাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি বাড়ি থেকে দূরে হওয়ায় এবং তখনো একা রাস্তা পার হওয়ার সাহস না থাকায় তাঁর মা প্রতিদিন তাঁকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন।

এদিকে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন দূরের স্কুলে যাতায়াত করা মায়ের জন্য কঠিন হয়ে উঠলে সপ্তম শ্রেণিতে তিনি কাছের কক্সবাজার সাহিত্যিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর করোনা মহামারির কারণে তাঁর জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে এবং সেখান থেকেই এসএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য চেষ্টা করলেও সেখানে তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।

বইপড়া থেকে লেখালেখির পথে

করোনাকালীন দীর্ঘ অবসর তাঁর জীবনে বই পড়ার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে। বইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থেকেই ধীরে ধীরে সাহিত্যজগতের প্রতি আকর্ষণ জন্মায়। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় শুরু হয় তাঁর লেখালেখি।

শুরুতে নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে শব্দে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ক্রমে সাহিত্যচর্চার একটি স্বতন্ত্র পরিসরে প্রবেশ করে। তাঁর জীবনের আনন্দ-বেদনা, স্মৃতি, সম্পর্ক ও উপলব্ধির নানা দিক লেখার বিষয় হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত অনুভবকে ভাষায় রূপ দেওয়ার এই প্রচেষ্টাই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ ও অনুভূতির পরিবর্তন

তোহফার জীবনে বন্ধুত্বের স্মৃতি যেমন গভীর, তেমনি রয়েছে বিচ্ছেদ ও নীরব দূরত্বের অভিজ্ঞতা। নার্সারি থেকেই তাঁর দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাঁদের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে তিনি তেমন কথা বলতেন না। চতুর্থ শ্রেণিতে দুই বন্ধু অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেলে তাঁদের একজনের সঙ্গে আর কখনো দেখা হয়নি। অন্যজনের সঙ্গে সপ্তম শ্রেণিতে নতুন বিদ্যালয়ে আবার দেখা হয় এবং সেখানে আরেকজন বান্ধবীর সঙ্গেও তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

বন্ধুদের মধ্যে ছিল চিঠি লেখার অভ্যাস, ‘বেস্টি’ সম্বোধন এবং জন্মদিনে সবার আগে শুভেচ্ছা জানানোর মধুর প্রতিযোগিতা। তোহফা সাধারণত রাত বারোটায় সবার আগে শুভেচ্ছা জানাতেন।

নবম শ্রেণিতে বিদ্যালয় পরিবর্তন করলেও পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় ছিল। তাঁরা একে অন্যের বাড়িতেও যেতেন। কলেজজীবনে এসে একজন বন্ধু বেসরকারি কলেজে ভর্তি হন, আর তোহফা ও তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ভর্তি হন সরকারি মহিলা কলেজে। একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও সময়ের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ কমতে থাকে।

তোহফা পরনিন্দা অপছন্দ করেন, বিশেষ করে তাঁকে নিয়ে অন্যের কাছে নেতিবাচক কথা বলা। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি বলেই একসময় তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তবু জন্মদিনে দুজনের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় চলেছিল।

পরবর্তী সময়ে জন্মদিন সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি বদলে যায়। তাঁর মনে হয়, জন্মদিন মানে জীবনের আরও একটি বছর পেরিয়ে যাওয়া; তাই দিনটিকে উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজে কখনো জন্মদিনের উৎসব না করলেও আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। পরে তিনি অন্যদের জন্মদিনেও শুভেচ্ছা জানানো বন্ধ করে দেন।

বর্তমানে তিনি ও তাঁর সেই পুরোনো বন্ধু একই কলেজে, একই বিভাগে পড়েন এবং দুজনই ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের প্রতিনিধি। একই বেঞ্চে বসা কিংবা একই ছবিতে উপস্থিত থাকার মতো নৈকট্য থাকলেও তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা নেই। একসময় যাঁকে কয়েক দিন না দেখলে তাঁর চোখে পানি চলে আসত, সময়ের ব্যবধানে সেই মানুষটির সঙ্গেই তৈরি হয়েছে দূরত্ব।

এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে সম্পর্কের পরিবর্তন, আবেগের ক্ষয় এবং সময়ের প্রভাব সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, এখন আর কোনো কিছু তাঁকে আগের মতো টানে না। তবু হারানোর হিসাব না রেখে তিনি নিজের জীবনে মায়ের উপস্থিতি ও লেখালেখিকে অবলম্বন করে এগিয়ে চলেছেন।

প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ

লুকাইয়া তাজনুর তোহফার সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে তাঁর লেখা যৌথ কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে। প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ দুটি হলো—

১. নীরবতার ভাষা

২. আচ্ছাদিত বিকেল নির্ঘুম

এই গ্রন্থগুলোতে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রকাশিত পরিসরকে পরিচিত করে তুলেছে। উল্লেখ্য, এখানে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যৌথ কাব্যগ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; একক কাব্যগ্রন্থের কোনো নাম এই জীবনীতে যুক্ত করা হয়নি।

পত্রিকা ও অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশনা

বিভিন্ন সংবাদপত্র, সাহিত্যপত্র ও অনলাইন ম্যাগাজিনে লুকাইয়া তাজনুর তোহফার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রকাশনার তালিকায় রয়েছে—

১. প্রথম আলো

২. জাতীয় দৈনিক অভয় নগর

৩. দৈনিক নোয়াখালীর কথা

৪. দৈনিক সিলেটের ডাক

৫. দৈনিক জালালাবাদ

৬. দৈনিক জনতার খবর

৭. The Paris Mail — অনলাইন

৮. স্বপ্ন ২৪ ডট কম — অনলাইন

৯. সাহিত্যকথন

১০. লেখাদূত

১১. বর্ণরীতি — অনলাইন ম্যাগাজিন

১২. মাসিক বাহান্ন — আদমজীনগর সৃষ্টি সাহিত্য পরিষদ

এসব পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে লেখা প্রকাশ তাঁর সাহিত্যচর্চাকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মুদ্রিত ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই তাঁর লেখালেখির উপস্থিতি রয়েছে।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি

সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে লুকাইয়া তাজনুর তোহফা দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা সনদ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—

১. বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বপ্ন সাহিত্য পরিষদ থেকে সম্মাননা সনদ।

২. মেধা অন্বেষণ প্রকাশ থেকে লেখক সম্মাননা সনদ।

এই সম্মাননাগুলো তাঁর সাহিত্যচর্চার পথে প্রাপ্ত স্বীকৃতির অংশ। সাহিত্যচর্চায় নিয়মিত থাকা এবং লেখার মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বীকৃতি একজন লেখকের জন্য উৎসাহের উৎস হতে পারে।

ব্যক্তিত্ব, জীবনবোধ ও সাহিত্যিক পরিচয়

লুকাইয়া তাজনুর তোহফার ব্যক্তিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর অন্তর্মুখিতা। শৈশব থেকেই তিনি নিজের জগতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততাকে গুরুত্ব দেন। কাছের মানুষের আচরণে আঘাত পেলে তা তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে। আবার জীবনের পরিবর্তন ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়েও তিনি নিজের অনুভূতিকে বুঝতে শেখার চেষ্টা করেছেন।

মায়ের প্রতি তাঁর গভীর টান, শৈশবের স্মৃতি, বন্ধুত্বের মধুরতা ও বিচ্ছেদের বেদনা এবং জীবন সম্পর্কে ব্যক্তিগত উপলব্ধি তাঁর জীবনকথার প্রধান অনুষঙ্গ। বই পড়া থেকে শুরু হওয়া সাহিত্যযাত্রা তাঁকে নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম দিয়েছে।

কবি ও লেখক হিসেবে তাঁর পথচলা এখনো বিকাশমান। যৌথ কাব্যগ্রন্থে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশ এবং সম্মাননা সনদ অর্জন তাঁর সাহিত্যচর্চার উল্লেখযোগ্য দিক। ভবিষ্যতে আরও পাঠ, অনুশীলন ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের লেখার জগৎকে সমৃদ্ধ করবেন—এমন প্রত্যাশা করা যায়।

শেষকথা

তোহফার জীবনকথায় মায়ের স্নেহ যেমন আছে, তেমনি আছে শৈশবের ক্ষত, বন্ধুত্বের স্মৃতি, বিচ্ছেদের নীরবতা এবং নিজের মতো করে জীবনকে বোঝার চেষ্টা। জীবনের সব হারানোর হিসাব তিনি রাখতে চান না; বরং তাঁর কাছে এখনো রয়ে গেছে মায়ের সঙ্গ এবং লেখার আশ্রয়।

তাঁর নিজের কথায়—

“যা হারিয়েছি, তার হিসাব রাখি নি। আমার সঙ্গে আছেন আম্মু, আছে আমার লেখা।”

এই কথার মধ্যেই যেন ধরা আছে তাঁর জীবনের একান্ত অনুভব—হারানোর মাঝেও যা রয়ে যায়, সেটুকুকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে চলা।

কবি লুকাইয়া তাজনুর তোহফার ফেসবুক প্রোফাইল — image

ফেসবুক প্রোফাইল: এখানে ক্লিক করুন 

কবি লুকাইয়া তাজনুর তোহফার Ask Answers প্রোফাইল দেখতে এখানে ক্লিক করুন। 

এরকম আরও কিছু প্রশ্ন

1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর

38,062 টি প্রশ্ন

37,396 টি উত্তর

1,841 টি মন্তব্য

3,943 জন সদস্য

Ask Answers সাইটে আপনাকে সুস্বাগতম! এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷
5 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য, 5 জন অতিথি
আজকে ভিজিট : 4117
গতকাল ভিজিট : 29464
সর্বমোট ভিজিট : 65811245
এখানে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন ও উত্তরের দায়ভার কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর৷ কোন প্রকার আইনি সমস্যা Ask Answers কর্তৃপক্ষ বহন করবে না৷
...