18 বার দেখা হয়েছে
পূর্বে "স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে করেছেন

1 টি উত্তর

0 জনের পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
পূর্বে করেছেন
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হলো শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার একটি জটিল স্বাস্থ্যগত অবস্থা। যখন আমরা খাবারের মাধ্যমে যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করি, দৈনন্দিন কাজকর্ম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে তার চেয়ে কম ক্যালরি খরচ হয়, তখন অতিরিক্ত শক্তি শরীরে ফ্যাট বা চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। দৈহিক উচ্চতা অনুযায়ী বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৫ এর ওপরে গেলে অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০ এর ওপরে গেলে তাকে স্থূলতা বলা হয়। ভুল জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত ফাস্টফুড বা মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা (যেমন- থাইরয়েড, পিসিওডি), বংশগত কারণ এবং মানসিক অবসাদের ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ওজনের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও জয়েন্টে ব্যথার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ওজন কমাতে ১০ টি কার্যকরী হোমোপ্যাথিক ঔষধ

১. Phytolacca Berry

ওজন কমানোর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় হোমিও ঔষুধ, যা চর্বি গলাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ও মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করে।

বিশেষ করে পেট, উরু ও নিতম্বের মেদ কমানোর জন্য মারাত্মক কার্যকর।

উদাহরণ: খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত ফাইটোলাকা বেরি সেবন করে সাকিল ৬ মাসে ৮ কেজি বাড়তি ওজন কমিয়েছেন।

২. Calcarea Carbonica

মুটিয়ে যাওয়া, ফর্সা, নরম ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত শরীরের ব্যক্তিদের মেদ কমানোর প্রধান ঔষধ।

সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং মাথায় প্রচুর ঘাম হওয়া।

মিষ্টি ও ডিম খাওয়ার তীব্র প্রবৃত্তি থাকে এবং পেটে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে।

উদাহরণ: ফর্সা ও থলথলে মেদযুক্ত গৃহিণী রিমার সামান্য হাঁটাচলাতেই দম আটকে আসে এবং রাতে মাথা ঘেমে ভিজে যায়।

৩. Graphites

শরীরে চর্বি জমা, থলথলে মেদ এবং কড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।

মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের অনিয়ম বা কম স্রাব হওয়ার সাথে সাথে ওজন দ্রুত বাড়তে থাকা।

রোগী ভীষণ চর্মরোগপ্রবণ (একজিমা/দাঁদ) এবং অত্যন্ত শীতকাতর হয়।

উদাহরণ: পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার পর থেকে সাবরিনার ওজন হু হু করে বাড়ছে এবং পেটে কড়া কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে।

৪. Fucus Vesiculosus

থাইরয়েডের সমস্যা (Hypothyroidism)-জনিত কারণে ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার জন্য আদর্শ ঔষধ।

গলার থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দ্রুত পোড়াতে সাহায্য করে।

পেটে প্রচুর গ্যাস ও বধহজমজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য কার্যকর।

উদাহরণ: থাইরয়েডের ওষুধ খেয়েও সুমার ওজন কমছিল না, ফিউকাস ভেসিকুলোসাস সেবনে তার থাইরয়েড ও ওজন দুটোই নিয়ন্ত্রণে এলো।

৫. Pulsatilla Nigricans

তরুণ-তরুণী বা মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্য ও চর্বিজাতীয় ফাস্টফুড খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধি।

অতিরিক্ত মিষ্টি, তেল-মসলাযুক্ত ও রিচ ফুড খাওয়ার প্রচণ্ড আকর্ষণ থাকা।

রোগী শান্ত ও নম্র স্বভাবের হয়, একদম তৃষ্ণাহীন থাকে এবং মুক্ত বাতাস পছন্দ করে।

উদাহরণ: ফাস্টফুড প্রিয় ও মিষ্টি ভক্ত তরুণী প্রীতির পিরিয়ডের গোলযোগের সাথে সাথে ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

৬. Lcopodium Clavatum

পেট ও কোমরের নিচের অংশে অতিরিক্ত চর্বি জমা এবং পেটে প্রচুর গ্যাস বা ফাঁপা থাকা।

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ক্ষুধাবোধ ও মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া।

যকৃৎ বা লিভারের গোলযোগ ও উচ্চ ইউরিক এসিডের সাথে মেদ বৃদ্ধি পাওয়া।

উদাহরণ: খোকন সাহেবের সারা শরীর পাতলা হলেও পেট ও কোমর বেলুনের মতো ফুলে গেছে এবং পেটে প্রচণ্ড গ্যাস্ট্রিক থাকে।

৭. Nux Vomica

রাত জাগা, সারাদিন বসে কাজ করা এবং কায়িক পরিশ্রম না করার কারণে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।

অতিরিক্ত চা, কফি, অ্যালকোহল, মসলাযুক্ত খাবার ও ধূমপানের অভ্যাস থাকা।

পেটে স্থায়ী বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং রোগী অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজের হওয়া।

উদাহরণ: অফিসে ডেস্কে বসে টানা কাজ করা ও বাইরের জাঙ্কফুড খাওয়া রফিকের মেদ বেড়ে ভুড়ি নেমে গেছে।

৮. Thuja Occidentalis

শরীরের বিশেষ কোনো স্থানে (যেমন- পেট, থাই বা বাহুতে) বিষমভাবে চর্বি জমা হওয়া।

শরীরে পানি জমা (Water Retention) বা টিকার কুফলে মেদ বৃদ্ধির প্রবণতা থাকা।

চর্মরোগ, আঁচিল ও তেলতেলে ত্বকের সাথে স্থূলতা থাকা।

উদাহরণ: সুমনের থাই ও পেটে চর্বি জমা হয়ে চামড়া ঝুলছে এবং তার শরীর সব সময় চটচটে তেলতেলে মনে হয়।

৯. Natrum Muriaticum

শরীরের নিম্নাংশের তুলনায় পেটের ওপরের অংশ ও গলা-ঘাড় শুকিয়ে যাওয়া কিন্তু কোমর ও থাই চর্বিযুক্ত থাকা।

খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকা এবং রোদে গেলে প্রচণ্ড কষ্ট বাড়ে।

মানসিকভাবে মানসিক আঘাত বা চাপা দুঃখে ভুগে হঠাৎ ওজন বাড়তে থাকা।

উদাহরণ: মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর থেকে মেহজাবিনের নিচের পেটে ও উরুতে প্রচুর মেদ জমে গেছে এবং সে প্রচুর কাঁচা লবণ খায়।

১০. Thyroidinum

থাইরয়েড হরমোনের চরম ঘাটতি এবং শরীর স্ফীত হয়ে ওজন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া।

রোগী সর্বদা ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করে এবং শরীর ফুলো ফুলো মনে হয়।

চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চুল পড়ার সাথে চর্বি বৃদ্ধি।

উদাহরণ: সারাদিন অবসাদ ও অতিরিক্ত চুল পড়ার সাথে তানভীরের শরীরের ওজন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

১টি সুন্দর শিক্ষণীয় গল্প: Phytolacca Berry ও Calcarea Carb-এর চমৎকার সাফল্য

পেশায় ব্যাংকার তানভীর সাহেব অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভীষণ চিন্তিত ছিলেন। উচ্চতা অনুযায়ী তার ওজন হওয়া উচিত ছিল ৬৫ কেজি, কিন্তু অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও সারাদিন টেবিলে বসে কাজ করার ফলে তার ওজন গিয়ে ঠেকেছিল ৯২ কেজিতে! একটু হাঁটলেই বুক ধড়ফড় করত, সামান্য সিঁড়ি ভাঙলেই দম বন্ধ হয়ে আসত। জিম, ক্র্যাশ ডায়েট আর বাজারচলতি বিভিন্ন ফ্যাট বার্নার ড্রিঙ্কস খেয়েও তার ওজন ২ কেজির বেশি কমেনি, বরং পেটের আলসার ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল।

হতাশ হয়ে তিনি এক অভিজ্ঞ হোমিও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলেন। ডাক্তারবাবু তানভীর সাহেবের থলথলে মেদ, সিঁড়িতে উঠতে গেলে শ্বাসকষ্ট, ডিম খাওয়ার ইচ্ছা এবং মাথায় অতিরিক্ত ঘাম দেখে নির্বাচন করলেন Calcarea Carbonica। সাথে চর্বি গলানোর জন্য দেওয়া হলো Phytolacca Berry Q (Mother Tincture)।

পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা ও ফাস্টফুড না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। জাদুকরীভাবে কোনো দুর্বলতা বা ক্ষতিকর সাইড ইফেক্ট ছাড়াই মাত্র ৪ মাসে তানভীর সাহেবের ওজন ১৯ কেজি কমে ৭৩ কেজিতে চলে এলো! তার বুক ধড়ফড়ানি বন্ধ হলো এবং সে ফিরে পেল নবযৌবন।

 ডোজ ও সেবনবিধি

সাধারণ মাত্রা: চর্বি গলানোর জন্য Phytolacca Berry Mother Tincture (Q) ১০-১৫ ফোঁটা সামান্য কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ৩ বার আহারের ৩০ মিনিট পর সেবনযোগ্য।

সংবিধানগত ঔষধ: রোগীর শারীরিক লক্ষণ অনুযায়ী Calcarea Carb 200C বা Graphites 200C সপ্তাহে ১-২ বার চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে হয়।

বিশেষ নির্দেশনা: ওজন কমানোর জন্য কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল পিল বা না খেয়ে থাকার অপচেষ্টা করবেন না। এটি শরীরের মেটাবলিজম নষ্ট করে দেয়।

পথ্য ও স্বাস্থ্যবিধি (Do's and Don'ts)

উপকারী পথ্য:

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

খাদ্যতালিকায় প্রচুর সবুজ শাকসবজি, শসা, সালাদ, টকদই ও পর্যাপ্ত পানি রাখুন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা শারীরিক ব্যায়াম করুন।

রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমান (কম ঘুম ওজন বাড়ায়)।

 বর্জনীয় পথ্য:

চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, প্রসেসড জুস, সফট ড্রিংকস ও বেকারি আইটেম সম্পূর্ণ বর্জন করুন।

অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ও সাদা ভাত অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ করুন।

রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমাতে যাবেন না।

এরকম আরও কিছু প্রশ্ন

0 টি উত্তর
15 ফেব্রুয়ারি, 2022 "স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
18 মার্চ, 2020 "রোগ ও চিকিৎসা" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
2 টি উত্তর
13 জুন, 2021 "মেডিসিন" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন শারিয়ার৫১
1 টি উত্তর
18 ফেব্রুয়ারি, 2020 "নারী স্বাস্থ্য" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 টি উত্তর
18 মার্চ, 2020 "স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
1 টি উত্তর
19 ফেব্রুয়ারি, 2020 "স্বাস্থ্য টিপস" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

37,792 টি প্রশ্ন

37,187 টি উত্তর

1,839 টি মন্তব্য

3,941 জন সদস্য

Ask Answers সাইটে আপনাকে সুস্বাগতম! এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷
8 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য, 8 জন অতিথি
আজকে ভিজিট : 3508
গতকাল ভিজিট : 20042
সর্বমোট ভিজিট : 64895940
এখানে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন ও উত্তরের দায়ভার কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর৷ কোন প্রকার আইনি সমস্যা Ask Answers কর্তৃপক্ষ বহন করবে না৷
...