সহজে বা দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারার ক্ষমতাকে আমরা সাধারণত 'মেধা' বা 'বুদ্ধিমত্তা' বলে এক লাইনে প্রকাশ করে দিই। কিন্তু বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মানুষের শেখার গতির এই পার্থক্যের পেছনে গভীর এবং বহুমুখী কিছু কারণ রয়েছে।
কিছু মানুষ কেন দ্রুত শেখে আর অন্যদের কেন সময় লাগে, তার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং 'কানেক্টিং ডটস' (Prior Knowledge)
আমাদের মস্তিষ্ক নতুন কোনো তথ্যকে একা একা মনে রাখতে পছন্দ করে না; এটি নতুন তথ্যকে পুরোনো কোনো চেনা অভিজ্ঞতার সাথে জুড়ে দিয়ে মনে রাখে।
-
কেন পার্থক্য হয়: একজন মানুষ যদি কোনো বিষয়ের মৌলিক বিষয়গুলো আগে থেকেই একটু আধটু জানে, তবে তার জন্য পরবর্তী জটিল অংশটি শেখা খুব সহজ হয়। যাকে আমরা 'গড গিফটেড মেধা' ভাবি, অনেক সময় তা আসলে তার অতীতে অর্জিত কোনো না কোনো অভিজ্ঞতারই বর্ধিত রূপ। অন্যদিকে, একদম শূন্য থেকে শুরু করা মানুষের একটু বেশি সময় লাগাই স্বাভাবিক।
২. শেখার ধরণ বা লার্নিং স্টাইল (Learning Styles)
সবার মস্তিষ্কের তথ্য প্রসেস করার ধরণ এক নয়। মনোবিজ্ঞানে মানুষের শেখার ধরণকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
-
Visual (দেখে শেখা): কেউ গ্রাফ, ছবি বা ভিডিও দেখে দ্রুত বোঝেন।
-
Auditory (শুনে শেখা): কেউ লেকচার বা অডিও শুনে সহজে মাথায় গেঁথে নেন।
-
Kinesthetic (হাতে-কলমে শেখা): কেউ নিজে নিজে প্র্যাকটিস বা কাজটা না করা পর্যন্ত শিখতে পারেন না।
-
পার্থক্যের কারণ: যদি একটি ক্লাসে শুধু লেকচার দিয়ে (Auditory) কোনো জটিল বিষয় পড়ানো হয়, তবে যিনি শুনে অভ্যস্ত তিনি দ্রুত বুঝবেন। কিন্তু যিনি হাতে-কলমে (Kinesthetic) শিখতে পছন্দ করেন, তার বুঝতে সময় লাগবে। এখানে খামতি মেধার নয়, বরং শেখানোর পদ্ধতির।