বটনেট (Botnet) মূলত হ্যাকারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ম্যালওয়্যার-সংক্রমিত ডিভাইসের একটি গোপন নেটওয়ার্ক, যা ব্যবহার করে একসঙ্গে বিশাল পরিসরে ডিডিওএস (DDoS) আক্রমণ চালানো হয়। 'Botnet' শব্দটি এসেছে 'Robot' এবং 'Network' এর সমন্বয়ে।
নিচে এটি তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া এবং DDoS আক্রমণে এর ব্যবহারের ধাপগুলো সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:
১. বোটনেট যেভাবে গঠিত হয় (The Build Phase)
একটি বোটনেট রাতারাতি তৈরি হয় না। হ্যাকাররা ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ডিভাইস বা সার্ভার হ্যাক করে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে:
• সংক্রমণ (Infection): হ্যাকাররা প্রথমে ফিশিং ইমেইল, ক্ষতিকর লিংক, পাইরেটেড সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা স্মার্ট ডিভাইস (যেমন: আইপি ক্যামেরা, রাউটার) সংক্রমিত করে।
• বট-এ রূপান্তর: ম্যালওয়্যারটি ডিভাইসে ইনস্টল হওয়ার পর ডিভাইসটি একটি "বট" (Bot) বা "জম্বি" (Zombie)-তে পরিণত হয়। সাধারণত ডিভাইসের মালিক বুঝতেই পারেন না যে তার ডিভাইসটি হ্যাক হয়েছে, কারণ ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিভাইসটি স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে।
• কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (C&C): হ্যাকাররা এই সব সংক্রমিত ডিভাইসকে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে যুক্ত করে, যাকে বলা হয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (C&C) সার্ভার। এর মাধ্যমে হ্যাকার (যাকে Botmaster বলা হয়) দূর থেকে একসাথে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ ডিভাইসকে নির্দেশ দিতে পারে।
২. DDoS আক্রমণে এটি যেভাবে ব্যবহার করা হয় (The Attack Phase)
যখন হ্যাকার কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা নেটওয়ার্ককে টার্গেট করে, তখন সে তার বোটনেটকে কাজে লাগায়:
• আক্রমণের নির্দেশ: হ্যাকার তার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল (C&C) সার্ভার থেকে বোটনেটের অন্তর্ভুক্ত সব ডিভাইসকে একসাথে টার্গেট ওয়েবসাইটের আইপি (IP) ঠিকানায় রিকোয়েস্ট বা ট্রাফিক পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
• একযোগে ট্রাফিকের বন্যা: লক্ষ লক্ষ সংক্রমিত ডিভাইস (বট) তাদের মালিকের অজান্তেই একসাথে ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ভুয়া ডেটা বা রিকোয়েস্ট পাঠানো শুরু করে।
• ভৌগোলিক বৈচিত্র্য: যেহেতু এই বটগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ডিভাইস, তাই এদের আইপি অ্যাড্রেসগুলোও আলাদা হয়। ফলে আক্রান্ত ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি সিস্টেম হুট করে বুঝতে পারে না যে এগুলো আসল ভিজিটর নাকি হ্যাকারের ট্রাফিক।
• সার্ভার অচল হওয়া: এত বিপুল পরিমাণ ডিভাইস থেকে আসা ট্রাফিকের চাপ সামলাতে না পেরে টার্গেট ওয়েবসাইটটি ধীরগতির হয়ে যায় বা পুরোপুরি ক্র্যাশ করে।