নিচের ফটোকার্ড অনুযায়ী, প্রতি বছর ২ নভেম্বর “পরের স্ত্রীকে নিজের মনে করে নেওয়ার দিন” পালন করা হয়।
লক্ষণীয়ঃ-
পরের স্ত্রীকে নিজের মনে করে নেওয়ার দিবস এবং ইসলামিক ও বাংলাদেশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দিবসটি পালন করা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ফটোকার্ড অনুযায়ী,
প্রতি বছর ২ নভেম্বর “পরের স্ত্রীকে নিজের মনে করে নেওয়ার দিন” পালন করা হয়। তবে এটি কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বা সরকারি দিবস নয়; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ব্যঙ্গাত্মক দিবসের পোস্ট বলে মনে হয়।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে:
ইসলাম অন্যের স্ত্রী বা বিবাহিত নারীর প্রতি অসৎ আকাঙ্ক্ষা পোষণ, অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন কিংবা কোনোভাবে তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন—
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
অর্থ: “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ পথ।” (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২)
অন্যের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করা এবং পরনারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানো ইসলামের নৈতিকতা ও বিধানের পরিপন্থী।
বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে:
আমাদের সমাজে বিবাহ একটি পবিত্র বন্ধন এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। অন্যের সংসার ও দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আমাদের সামাজিক মূল্যবোধেরও অংশ। তাই এ ধরনের দিবসকে উৎসাহিত করা বা এর নামে পরকীয়া, পরনারীর প্রতি আসক্তি কিংবা অন্যের সংসার ভাঙার প্রবণতাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা মোটেও শোভনীয় নয়।
আমার পরামর্শ: দিবসটি যদি নিছক রসিকতা বা ব্যঙ্গের উদ্দেশ্যেও প্রচারিত হয়ে থাকে, তবুও এর ভাষা ও বক্তব্য নিয়ে সচেতন থাকা উচিত। বরং অন্যের স্ত্রীকে নিজের মনে করার পরিবর্তে নিজের স্ত্রীকে ভালোবাসা, সম্মান করা এবং নিজের দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর করে তোলার শিক্ষা গ্রহণ করাই উত্তম।
মনে রাখতে হবে, অন্যের সংসার ভেঙে নিজের সুখ গড়ার মধ্যে প্রকৃত সুখ বা কল্যাণ নেই। মানুষের সম্মান, পারিবারিক বন্ধন ও দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।