মিশরের প্রেসিডেন্টের একটি গোপন বার্তায় বেঁচে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রেসিডেন্ট! তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পেছনের ঘটনাঃ-
১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাস। বাংলাদেশে তখন চরম অস্থিরতা। জাপানি বিমান (JAL 472) ছিনতাই করে ঢাকায় নামার ঘটনা নিয়ে পুরো দেশ এবং প্রশাসন যখন ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগেই আড়ালে চলছিল এক রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের প্রস্তুতি!
১৯৭৭ সালের ২রা অক্টোবর মধ্যরাতে ঢাকায় বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর একাংশ এক আকস্মিক অভ্যুত্থান ঘটায়। বিদ্রোহীদের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমানকে বন্দী বা হত্যা করা।
কিন্তু বিদ্রোহীরা যখন জিয়ার বাসভবন ঘেরাও করতে যায়, ততক্ষণে তিনি সেখানে ছিলেন না! কিন্তু কীভাবে আগেভাগেই এই বিদ্রোহের খবর পেয়েছিলেন জিয়া? লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম. এ. হামিদের বিখ্যাত বই "তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা"-তে এই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।
বইটির তথ্যমতে, এই বিদ্রোহের আগাম খবর জিয়াউর রহমানকে দিয়েছিলেন তৎকালীন মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত!
মিশরের গোয়েন্দা সংস্থা কোনোভাবে ঢাকায় হতে যাওয়া এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছিল এবং প্রেসিডেন্ট সাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ বার্তার মাধ্যমে জিয়াকে সতর্ক করে দেন।
সেই গোপন বার্তা পেয়েই জিয়াউর রহমান আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যান এবং নিজের বাসভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে আত্মগোপন করেন। ফলে বিদ্রোহীরা তাঁর নাগাল পায়নি। পরবর্তীতে আড়াল থেকেই অনুগত সেনাদের সংগঠিত করে তিনি পুরো বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেন এবং বেতারে ভাষণ দিয়ে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং একটিমাত্র গোপন বার্তা কীভাবে একটি দেশের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, ১৯৭৭ সালের এই ঘটনা তার এক বড় উদাহরণ!
ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়টি আপনার কেমন লাগলো? মন্তব্যের ঘরে জানান!