পড়াশোনা ও লেখালেখি—দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। একটিকে বাদ না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সময় ভাগ করে নিলেই দুটো সুন্দরভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে আপনি যেহেতু নিয়মিত কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লেখেন, তাই লেখালেখির জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা জরুরি।
পড়াশোনা ও লেখালেখির ভারসাম্য রাখার ৭টি উপায়ঃ-
১. পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিন: অনার্সের ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টের সময়সীমা মাথায় রেখে দৈনিক পড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
২. লেখালেখির নির্দিষ্ট সময় রাখুন: প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা লেখালেখির জন্য বরাদ্দ রাখুন। সম্ভব হলে রাতে বা ভোরে লিখুন, যখন মনোযোগ বেশি থাকে।
৩. প্রতিদিন সবকিছু লিখতে যাবেন না: একদিন কবিতা, অন্যদিন গল্প বা প্রবন্ধ নিয়ে কাজ করতে পারেন। এতে লেখার চাপ কমবে।
৪. ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: একদিনে পুরো গল্প শেষ করার পরিবর্তে কয়েকটি অনুচ্ছেদ লিখুন। কবিতার ক্ষেত্রেও প্রতিদিন কিছুটা সময় দিন।
৫. পড়াশোনার ফাঁকে লেখার ভাবনা ধরে রাখুন: পড়ার সময় কোনো কবিতা বা গল্পের ভাবনা এলে খাতায় বা মোবাইলে সংক্ষেপে লিখে রাখুন। পরে সেটি নিয়ে কাজ করুন।
৬. মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কমান: অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ের সময়টুকু পড়াশোনা ও লেখালেখিতে কাজে লাগান।
৭. বিশ্রাম ও ঘুমের প্রতি যত্নশীল হোন: পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম না হলে পড়াশোনা এবং সৃজনশীলতা—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
★ একটি নমুনা দৈনিক রুটিনঃ-
সময় | কাজ
সকাল ৬টা–৮টা | অনার্সের পড়াশোনা
সকাল ৯টা–বিকেল | ক্লাস ও অন্যান্য কাজ
বিকেল ৫টা–৬টা | বিশ্রাম
সন্ধ্যা ৭টা–৯টা | পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্ট
রাত ৯টা–১০টা | কবিতা, গল্প বা প্রবন্ধ লেখা
রাত ১০টা–১০:৩০ | পরের দিনের পরিকল্পনা
এটি নমুনা রুটিন; নিজের ক্লাস ও ব্যক্তিগত সময় অনুযায়ী এটা আপনি পরিবর্তন করবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ- পড়াশোনার জন্য লেখালেখি ছেড়ে দেবেন না, আবার লেখালেখির জন্য পড়াশোনাকেও অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন, নিয়মিত পড়াশোনা আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়াবে, আর নিয়মিত লেখালেখি আপনার সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করবে। দুটোই আপনার বিকাশের অংশ।