মানব সভ্যতার ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। আদিম যুগ পেরিয়ে মানুষ যখন কৃষিকাজ, লিখন পদ্ধতি, আইন এবং নগর গড়ে তুলতে শিখল, তখনই জন্ম নিল মহান সব সভ্যতা। পৃথিবীর প্রাচীন ও প্রধান সভ্যতাগুলোকে সাধারণত নদী অববাহিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে দেখা গেছে।
পৃথিবীর প্রধান এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী সভ্যতাগুলোকে নিচে আলোচনা করা হলো:
১. চার প্রধান নদী-কেন্দ্রিক প্রাচীন সভ্যতা
-
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ - ৩৩০ অব্দ): বর্তমান ইরাক, সিরিয়া ও কুয়েতের দজলা (Tigris) ও ফোরাত (Euphrates) নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। একে "সভ্যতার সূতিকাগার" বলা হয়। সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসিরীয় এবং ক্যালডীয় সভ্যতা—এই চার ভাগে এটি বিভক্ত ছিল। চাকার আবিষ্কার এবং লিখন পদ্ধতি (কিউনিফর্ম) এদেরই অবদান।
-
মিশরীয় সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ - ৩০ অব্দ): আফ্রিকা মহাদেশের নীল নদের তীরে এই রহস্যময় ও নান্দনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে। পিরামিড, মমি, হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতি এবং সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কারের জন্য মিশরীয়রা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
-
সিন্ধু সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০ - ১৩০০ অব্দ): ভারতীয় উপমহাদেশের সিন্ধু নদের অববাহিকায় (বর্তমান পাকিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারত) এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ছিল এর প্রধান দুটি শহর। এদের চমৎকার নগর পরিকল্পনা, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পোড়ামাটির ইটের ব্যবহার তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ছিল।
-
চীনা সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ - বর্তমান): চীনের হোয়াংহো (হলুদ নদী) এবং ইয়াংসি নদীর তীরে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে। কাগজ, কম্পাস, বারুদ এবং রেশম (Silk) আবিষ্কারের মাধ্যমে এই সভ্যতা পৃথিবীর ইতিহাসে বিশাল অবদান রেখেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিক সভ্যতা।