Distributed Denial-of-Service (DDoS) আক্রমণ কী?
DDoS (Distributed Denial-of-Service বা বিতরণকৃত অস্বীকার সেবা) হলো একটি সাইবার আক্রমণ। এই আক্রমণে কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট, সার্ভার বা অনলাইন পরিষেবাকে অচল করার উদ্দেশ্যে একাধিক ভিন্ন উৎস থেকে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণ ট্রাফিক বা ভুয়া অনুরোধ (requests) পাঠানো হয়।
এটি সাধারণ DoS (Denial-of-Service) আক্রমণ থেকে আলাদা। সাধারণ DoS আক্রমণে একটিমাত্র কম্পিউটার বা উৎস থেকে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু DDoS আক্রমণে হ্যাকাররা সাধারণত ম্যালওয়্যার দিয়ে সংক্রমিত অনেকগুলো কম্পিউটারের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, যেটিকে বটনেট (Botnet) বলা হয়। এই বটনেটের মধ্যে সাধারণ কম্পিউটার, সার্ভার বা ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) ডিভাইস থাকতে পারে।
এটি ওয়েবসাইট বা নেটওয়ার্ককে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে?
একটি DDoS আক্রমণ মূলত ওয়েবসাইটের ধারণক্ষমতা বা রিসোর্সকে ছাড়িয়ে গিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। এটি যেভাবে ক্ষতিসাধন করে তা নিচে দেওয়া হলো:
• ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) বা ট্রাফিকের বন্যা: আক্রমণকারীরা একসাথে লক্ষ লক্ষ অনুরোধ পাঠায়, যা ওয়েবসাইটের মোট ডেটা আদান-প্রদানের সক্ষমতা বা ব্যান্ডউইথ সম্পূর্ণ শেষ করে দেয়। ফলে সাধারণ বৈধ ব্যবহারকারীরা সাইটে প্রবেশ করতে পারেন না।
• প্রসেসিং ক্ষমতা ও মেমোরি exhaustion: সার্ভারের প্রসেসর (CPU) ও র্যাম (RAM) একসাথে এত বিশাল পরিমাণ ভুয়া প্রসেস বা রিকোয়েস্ট সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খায়। ফলে সার্ভারটি ধীরগতির হয়ে পড়ে অথবা পুরোপুরি ক্র্যাশ করে।
• ডাটাবেস বা অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার অচল করা: কিছু আক্রমণ থাকে যেগুলোতে জটিল ডাটাবেস কোয়েরি বা রিকোয়েস্ট বারবার পাঠানো হয় (যেমন অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার আক্রমণ), যা পুরো ব্যাকএন্ড সিস্টেমকে অচল করে দেয়।
• সার্ভিস ডাউন বা অপারেশনাল স্থবিরতা: সাইট বা অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হন। যেমন— ই-কমার্স সাইট হলে কেনাকাটা বন্ধ হয়ে যায়, গেম সার্ভার হলে গেম খেলা যায় না।
• বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও সুনাম নষ্ট: সাইট ডাউন থাকার ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয় এবং গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হয়।