292 বার দেখা হয়েছে
"উচ্চ মাধ্যমিক" বিভাগে করেছেন

1 টি উত্তর

0 জনের পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
এসএসসি (SSC) ভোকেশনাল শাখা থেকে পাস করার পর একাদশ শ্রেণিতে (HSC) মানবিক বা আর্টস (Arts) শাখায় ভর্তি হওয়া একটি দারুণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। ভোকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনটি পড়াশোনার ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পড়াশোনার ধরন ও পরিবর্তন

• পড়াশোনার চাপ: ভোকেশনাল শাখায় যেখানে প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক কাজের চাপ বেশি থাকে, আর্টসে ঠিক তার উল্টো। এখানে প্র্যাকটিক্যাল বা ল্যাব ওয়ার্ক একদমই কম (কিছু বিষয় ছাড়া)। তবে এখানে তাত্ত্বিক (Theoretical) পড়াশোনা এবং লেখার পরিমাণ অনেক বেশি।

• সহজবোধ্যতা: বিজ্ঞান বা কমার্সের তুলনায় আর্টসের বিষয়গুলো (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, পৌরনীতি, সমাজবিজ্ঞান) সাধারণত দ্রুত বোঝা যায়। তাই আপনি যদি নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করেন, তবে সিলেবাস শেষ করা আপনার জন্য বেশ সহজ হবে।

• সৃজনশীলতা ও মুখস্থ বিদ্যা: আর্টসে ভালো করার জন্য মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে যেকোনো বিষয় নিজের ভাষায় গুছিয়ে লেখার দক্ষতা বা সৃজনশীলতা বেশি প্রয়োজন হয়।

২. ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

• হঠাৎ পরিবর্তনের ধাক্কা: ভোকেশনালে আপনি কারিগরি বিষয় বা ছোট ছোট প্রশ্ন ও প্র্যাকটিক্যালে অভ্যস্ত ছিলেন। আর্টসে এসে আপনাকে বড় বড় বড় বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। শুরুর দিকে পড়াগুলো একটু বড় বা বোরিং লাগতে পারে।

• ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান: আর্টসের অনেক বিষয়েই ভালো নম্বর পেতে হলে বাংলা ও ইংরেজির বেসিক ভালো হতে হয়। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ভালো দক্ষতা না থাকলে এই শাখায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

৩. এই পরিবর্তনের বড় সুবিধা (Advantages)

• বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সুযোগ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের "বি" ইউনিট (মানবিক শাখা)-এ আর্টসের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশি সিট থাকে। ভোকেশনাল থেকে আর্টসে এলে আপনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতোই সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

• বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রস্তুতি: আর্টসের মূল বিষয়গুলো যেমন—ইতিহাস, ভূগোল, পৌরনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো বিসিএস (BCS), ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের সাথে সরাসরি মিলে যায়। ফলে আপনার ভবিষ্যৎ চাকরির ভিত্তি এখনই তৈরি হয়ে যাবে।

৪. বিষয় (Subject) নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরামর্শ

ঐচ্ছিক বা মূল বিষয় বেছে নেওয়ার সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কম পরিশ্রমে ভালো জিপিএ (GPA) পাওয়া সম্ভব:

• সহজ ও নম্বর তোলার বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি—এই বিষয়গুলোতে সাধারণত খুব ভালো নম্বর ওঠে।

• প্র্যাকটিক্যাল যুক্ত বিষয়: আপনার যদি প্র্যাকটিক্যাল করার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান, তবে মনোবিজ্ঞান (Psychology) বা ভূগোল (Geography) নিতে পারেন। এগুলোতে ২৫ নম্বরের প্র্যাকটিক্যাল থাকে, যা জিপিএ-৫ পেতে দারুণ সাহায্য করে।

• কঠিন বিষয় এড়ানো: আপনার যদি গণিতে দুর্বলতা থাকে, তবে 'অর্থনীতি (Economics)' বিষয়টি এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে কিছু গাণিতিক টার্ম থাকে।

এরকম আরও কিছু প্রশ্ন

1 টি উত্তর
1 টি উত্তর
1 নভেম্বর, 2021 "ব্যকরণ" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন Md.Masud rana
0 টি উত্তর
9 জানুয়ারি, 2025 "ইন্টারনেট" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন Farukinfo
1 টি উত্তর
1 টি উত্তর

38,125 টি প্রশ্ন

37,605 টি উত্তর

1,845 টি মন্তব্য

3,947 জন সদস্য

Ask Answers সাইটে আপনাকে সুস্বাগতম! এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷
6 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য, 6 জন অতিথি
আজকে ভিজিট : 12902
গতকাল ভিজিট : 15355
সর্বমোট ভিজিট : 65983122
এখানে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন ও উত্তরের দায়ভার কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর৷ কোন প্রকার আইনি সমস্যা Ask Answers কর্তৃপক্ষ বহন করবে না৷
...