আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, শুধু স্তনে চাপ দিলে দুই পাশ থেকে অল্প সাদা তরল বের হওয়া অনেক সময় হরমোনের পরিবর্তন বা স্তনে বারবার চাপ দেওয়ার কারণেও হতে পারে। এটাকে galactorrhea বলা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়িও এর একটি সম্ভাব্য কারণ, আর যৌনমিলনের সময় স্তন বা নিপল চাপ দিলে সাময়িকভাবে এমন তরল বের হতে পারে।
আপনি যেহেতু গত চার মাস Rosen 28 Plus খেয়েছেন এবং ওই সময় দুই স্তনে ব্যথা অনুভব করেছেন, পিলের হরমোনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি স্তনে ব্যথা এবং নিপল থেকে দুধের মতো স্রাবের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে শুধু এই লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে এটি পিলের কারণেই হয়েছে। গর্ভধারণ, প্রোল্যাক্টিন হরমোন বেড়ে যাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য হরমোনজনিত কারণেও এমন হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসক সাধারণত স্তন পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রেগন্যান্সি টেস্ট, প্রোল্যাক্টিন ও থাইরয়েডের পরীক্ষা করতে পারেন।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বারবার স্তন বা নিপল চেপে দেখে তরল বের হয় কি না পরীক্ষা করবেন না। কারণ বারবার চাপ বা যৌনমিলনের সময় অতিরিক্ত উদ্দীপনা নিজেই স্রাব চলতে থাকার কারণ হতে পারে। কয়েকদিন স্তনে অপ্রয়োজনীয় চাপ না দিয়ে লক্ষ্য করুন, নিজে থেকে তরল বের হয় কি না।
আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন—আপনি পিল বন্ধ করার পর ডিম্বস্ফোটন আবার দ্রুত শুরু হতে পারে, তাই পিল বন্ধ করার পর অসুরক্ষিত সহবাস হলে শুধু একটি নেগেটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্টের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক নয়, বিশেষ করে পরীক্ষাটি খুব তাড়াতাড়ি করা হয়ে থাকলে।
আমার পরামর্শ হবে আতঙ্কিত না হয়ে একজন গাইনি/স্তন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়মিতভাবে দেখানো। বিশেষ করে যদি কয়েকদিন পরও সাদা তরল বের হতে থাকে, মাসিক অনিয়মিত হয়, অথবা মাথাব্যথা/চোখে ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যদি তরলটি রক্তাক্ত বা স্বচ্ছ হয়, নিজে থেকেই বের হয়, শুধু একটি স্তন থেকে আসে, কোনো শক্ত গুটি থাকে, স্তন লাল-গরম/ফোলা হয় বা তীব্র ব্যথা ও জ্বর থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সব মিলিয়ে, আপনার বর্ণনা—দুই স্তনেই, অল্প পরিমাণে, শুধু চাপ দিলে সাদা তরল—এটি অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর কিছু নয় এবং স্তন উদ্দীপনা বা হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিন্তু যেহেতু এটি নতুন লক্ষণ এবং আপনি গর্ভবতী নন বলে মনে করছেন, একবার চিকিৎসকের মাধ্যমে কারণটা নিশ্চিত করে নেওয়াই নিরাপদ।