বাংলা বর্ণমালার সংস্কার ও আধুনিকায়নের ইতিহাসে "অং" (অ + ং) এবং "অঃ" (অ + ঃ) বর্ণ দু'টির রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।
• কত সালে বাদ দেওয়া হয়: ১৮৫৫ সালে এই বর্ণ দু'টিকে আংশিকরূপে রূপান্তর বা স্বরবর্ণের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
• কে বাদ দিয়েছেন: প্রখ্যাত সমাজসংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর যুগান্তকারী শিশুশিক্ষা গ্রন্থ ‘বর্ণপরিচয়’ (প্রথম ভাগ) প্রকাশের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করেন।
• আংশিক রূপ এখন যেভাবে লেখা হয়: প্রাচীনকালে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাবে অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বতন্ত্র স্বরবর্ণ মনে করা হতো এবং সেগুলোকে "অ"-এর সাথে যুক্ত করে "অং" এবং "অঃ" হিসেবে স্বরবর্ণের তালিকায় (ঔ-এর পরে) পড়ানো হতো। বিদ্যাসাগর বুঝতে পারেন যে এগুলোর নিজস্ব কোনো স্বাধীন উচ্চারণ নেই এবং এগুলো মূলত ব্যঞ্জনধ্বনির আশ্রয় নিয়ে উচ্চারিত হয়। তাই তিনি "অ" অংশটি কেটে বাদ দিয়ে এদের আংশিক বা মূল রূপ দুটিকে ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকায় স্থানান্তর করেন।