ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট ও ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলারা জাহিদ জানান, ’ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হওয়াটাই স্বাভাবিক। ভূমিকম্প হলে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে নিজের ক্ষতি করে বেশি। ভূমিকম্প বিষয়ে আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। এই সচেতনতার অভাব পূরণ করতে পারলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতো।’
ভূমিকম্প কেন হয়? ভূ-অভ্যন্তরে স্থিত গ্যাস যখন ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা আগ্নেয়গিরির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তখন সেই গ্যাসের অবস্থানটি ফাঁকা হয়ে পড়ে আর পৃথিবীর উপরের তলের চাপ ওই ফাঁকা স্থানে দেবে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তখনই ভূ-পৃষ্ঠে প্রবল কম্পনের অনুভব হয়, যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে—
১। ভূ-পৃষ্ঠের হঠাৎ পরিবর্তন জনিত কারণে
২। আগ্নেয়গিরি সংঘটিত হওয়ার কারণে
৩। শিলাচ্যুতিজনিত কারণে ।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল।
ভূমিকম্প হলে কী করবেন?
এক্ষেত্রে আপনি যদি বাড়ির ভেতর থাকেন তাহলে ---
* ড্রপ, কাভার ও হোল্ড অন পদ্ধতিতে মেঝেতে বসে পড়ুন,
* কোনো মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন এবং কিছুক্ষণ বসে থাকুন।
* হেলমেট পরে বা হাত দিয়ে ঢেকে মাথাকে আঘাত থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করুন।
* বিছানায় থাকলে মাথা বাঁচাতে বালিশ ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের কাছে বসে আশ্রয় নিতে পারেন। * বাড়ির বাইরের দিকে থাকা দেয়াল বা কাচের জানালা বিপজ্জনক। ভূমিকম্পের সময় যতটা সম্ভব এমন জায়গা থেকে দূরে থাকুন।
* সুইচের সামনে থাকলে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র বন্ধ করে দিন।
* রান্নাঘরে চুলা চালু থাকলে বন্ধ করুন।
* বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থান করলে ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতরে থাকাই ভালো।
* ভূমিকম্প থামলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন। নিচে নামতে চাইলে কোনোভাবেই লিফট ব্যবহার করবেন না। সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামুন।
আর আপনি যদি বাইরে থাকেন তাহলে---
* খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিন।
* বহুতল ভবনের প্রান্তভাগের নিচে বা পাহাড়-পর্বতের নিচে কোনোভাবেই দাঁড়াবেন না। ওপর থেকে খণ্ড পড়ে আহত হতে পারেন।
* লাইটপোস্ট, বিল্ডিং, ভারী গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে দাঁড়াবেন না।
* রাস্তায় ছোটাছুটি করবেন না। মাথার ওপর কাচের টুকরো, ল্যাম্পপোস্ট অথবা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
* ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে দ্রুত গাড়ি খোলা জায়গায় পার্ক করুন।
* ব্রিজ, ফ্লাইওভারে ভূমিকম্পের সময় থামবেন না। বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামান।