মাসিক কেন হয়?
মেয়েদের শরীরে ডিম্বাশয় (ovary) এবং জরায়ু (uterus) নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থাকে। প্রতি মাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু পরিপক্ব হয়ে বের হয়ে আসে। একে ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশন (ovulation) বলা হয়।
১. জরায়ুর প্রস্তুতি: ডিম্বাণুটি যখন বের হয়, তখন জরায়ু নিজেকে সম্ভাব্য গর্ভাবস্থার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে। জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে রক্ত এবং পুষ্টির একটি নরম আস্তরণ বা পর্দা (endometrium) তৈরি হয়, যাতে গর্ভধারণ হলে ভ্রূণ সেখানে বড় হতে পারে। ২. গর্ভধারণ না হলে: যদি ডিম্বাণুটি পুরুষের শুক্রাণুর দ্বারা নিষিক্ত না হয় (অর্থাৎ গর্ভধারণ না ঘটে), তখন শরীরের হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ৩. রক্তস্রাব: গর্ভধারণ না হওয়ায় জরায়ুর ভেতরে তৈরি হওয়া সেই নরম আস্তরণটির আর কোনো প্রয়োজন থাকে না। তখন জরায়ু সেই রক্ত এবং কোষের আস্তরণটিকে ভেঙে ফেলে। এই ভেঙে যাওয়া অংশই যোনিপথ দিয়ে রক্ত আকারে বাইরে বেরিয়ে আসে, যাকে আমরা মাসিক বা পিরিয়ড বলি।
মাসিক কতদিন পরপর হয়?
একটি মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকে পরবর্তী মাসের মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম দিন পর্যন্ত সময়টাকে মাসিক চক্র (Menstrual Cycle) বলা হয়।
-
স্বাভাবিক সময়কাল: সাধারণত এই চক্রটি ২৮ দিনের হয়ে থাকে। তবে সবার শরীর এক নয়। ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে পিরিয়ড হওয়াকেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ধরা হয়।
-
রক্তস্রাবের স্থায়িত্ব: সাধারণত একটি পিরিয়ড ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।