বাংলাদেশে একটি স্থায়ী ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট (Dental Implant) করতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগে এবং প্রতি দাঁতের জন্য খরচ পড়ে ২৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা। কৃত্রিম উপায়ে স্থায়ী দাঁত লাগানোর এটিই সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা।
সময় ও খরচের বিস্তারিত ব্রেকডাউন নিচে দেওয়া হলো:
ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট করতে কত দিন লাগে?
ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের চিকিৎসা মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এটি কোনো ১ বা ২ দিনের তাৎক্ষণিক কাজ নয়:
• প্রথম ধাপ (সার্জারি ও স্ক্রু বসানো): ডেন্টিস্ট প্রথমে আপনার মাড়ির হাড়ের ভেতরে একটি টাইটানিয়ামের স্ক্রু (ইমপ্ল্যান্ট পোস্ট) বসিয়ে দেবেন। এই ছোট সার্জারি করতে মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে।
• দ্বিতীয় ধাপ (হাড়ের সাথে জোড়া লাগা - ওসিয়ানটিগ্রেশন): স্ক্রুটি বসানোর পর হাড়ের সাথে সেটি স্থায়ীভাবে জোড়া লাগার জন্য ৩ থেকে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময় মাড়ির ভেতরের স্ক্রুটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক দাঁতের শিকড়ের মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
• তৃতীয় ধাপ (ক্রাউন বা দাঁত বসানো): হাড়ের সাথে স্ক্রু শক্তভাবে সেট হয়ে যাওয়ার পর, ডেন্টিস্ট তার ওপর একটি সংযোগকারী অংশ (Abutment) এবং কৃত্রিম দাঁতের ক্যাপ (Crown) বসিয়ে দেন। এই চূড়ান্ত ধাপটি করতে সাধারণত ২ থেকে ৩টি ভিজিট বা কয়েক দিন সময় লাগে।
(তবে রোগীর মাড়ির হাড় যদি পাতলা বা দুর্বল হয়, তবে অতিরিক্ত "বোন গ্রাফটিং" বা হাড় বাড়ানোর চিকিৎসা লাগতে পারে, সে ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ৯ মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।)
ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের খরচ কত?
বাংলাদেশে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের খরচ মূলত কোন দেশের এবং কোন ব্র্যান্ডের মেটেরিয়াল (টাইটানিয়াম স্ক্রু ও ক্যাপ) ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে:
ইমপ্ল্যান্টের ধরন/ব্র্যান্ড প্রতি দাঁতের আনুমানিক খরচ (টাকা)
সাধারণ/এন্ট্রি লেভেল (যেমন: কোরিয়ান বা ইন্ডিয়ান ব্র্যান্ড) ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা
মাঝারি মানের (যেমন: ইসরায়েলি বা উন্নত কোরিয়ান ব্র্যান্ড) ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা
প্রিমিয়াম/সেরা মানের (যেমন: আমেরিকান, সুইস বা জার্মান ব্র্যান্ড) ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০+ টাকা
খরচ কম-বেশি হওয়ার অন্যান্য কারণ:
১. ডাক্তারের অভিজ্ঞতা ও ক্লিনিকের মান: বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন বা বড় কোনো ডেন্টাল হসপিটালে খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
2. দাঁতের ক্যাপ বা ক্রাউনের মেটেরিয়াল: আপনি মেটাল, পোরসেলিন নাকি জিরকোনিয়া (Zirconia) ক্যাপ ব্যবহার করছেন তার ওপর খরচ নির্ভর করে। জিরকোনিয়া ক্যাপের স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর দামও কিছুটা বেশি।
৩. অতিরিক্ত চিকিৎসা: হাড় দুর্বল হলে বোন গ্রাফটিং (Bone Grafting) বা সাইনাস লিফট লাগলে অতিরিক্ত ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত যুক্ত হতে পারে।