বিজ্ঞানসম্মতভাবে হস্তমৈথুন সরাসরি কোনো মারাত্মক বা স্থায়ী রোগ নয়। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে মাত্রাতিরিক্ত বা প্রচণ্ড জোরে করার ফলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হস্তমৈথুনের ফলে যেসব সমস্যা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে:
• শারীরিক সমস্যা:
• অতিরিক্ত বা খুব জোরে ঘর্ষণের কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া, লাল হয়ে যাওয়া, ঘষা লেগে ছড়ে যাওয়া বা সামান্য ক্ষত হতে পারে।
• খুব শক্ত করে ধরার ফলে সাময়িক ফোলাভাব বা এডেমা (Edema) হতে পারে।
• সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে হাত থেকে জীবাণু সংক্রমণ হয়ে প্রস্রাবের নালীতে সংক্রমণ (UTI) বা প্রদাহ হতে পারে।
• যৌনমিলনের সময় হস্তমৈথুনের অভ্যাসের সাথে মিল না হলে দ্রুত বীর্যপাত বা পার্টনারের সাথে যৌন তৃপ্তিতে সমস্যা অনুভূত হতে পারে।
• মানসিক সমস্যা:
• অতিরিক্ত আসক্তি বা কম্পালসিভ আচরণে রূপ নিলে পড়াশোনা, কাজ ও দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
• অতিরিক্ত মনস্তাপ, অপরাধবোধ (Guilt), লজ্জা বা উদ্বেগের সৃষ্টি হতে পারে।
• তবে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা—যেমন এটি স্থায়ী বন্ধ্যাত্ব, কিডনি নষ্ট বা চিরতরে পঙ্গুত্বের কারণ—এগুলো সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক।
এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়:
হস্তমৈথুনের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে বা পরিহার করতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
• পর্নোগ্রাফি বা উত্তেজনাকর উপাদান বর্জন: মোবাইলে বা কম্পিউটারে থাকা পর্নোগ্রাফি কালেকশন মুছে ফেলুন এবং ব্রাউজারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা ব্লকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
• একা থাকা কমানোর চেষ্টা: বেশিরভাগ সময় একা ঘরে বা বিছানায় শুয়ে থাকলে এ ধরনের চিন্তা বেশি আসে। তাই বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সাথে সময় কাটান।
• নিজেকে ব্যস্ত রাখুন: পছন্দের কোনো শখ, খেলাধুলা, বই পড়া বা সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে যুক্ত রাখুন।
• নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম: প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করুন। এতে মানসিক চাপ কমে এবং শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়।
• জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং অলসতা ত্যাগ করুন। শরীর পরিষ্কার রাখতে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলুন।