43 বার দেখা হয়েছে
"বাংলা গল্প" বিভাগে করেছেন


আমার তো মাথা খারাপ হয়নি যে, তোকে জেনে শুনে আগুনের মাঝে ঠেলে দিব। চুপচাপ রেস্ট নে কয়েকদিন। ইচ্ছে হলে থেকে যাবি, আর না হয় মামার কাছে চলে যাবি। অঢেল টাকা আছে এখন। 

তোর কাছে এসব শুনতে চাইনি। তুই যেমন পাগল বানাতে চেয়েছিস, তেমন পাগল নই আমি। অনেক আগে শুনেছিলাম ম্যামের কাছে, নিজের নাম লুকিয়ে রেখে মানুষ সমুদ্রের মাধ্যমে যাতায়াত করে। খোঁজ নে যে হাঙ্গেরেরি রুটে কোন প্রমদতরি যাচ্ছে কিনা। বাকিটা কীভাবে সামলাতে হবে তুই জানিস। 

তুই জেয়ে কি করবি বলতো?

সেই সাদা কাপরে আবৃত লোকটাকে দেখতে। তোর কথার মাঝে সবচেয়ে বেশী আকর্ষিত লেগেছে এই লোকটাকে আমার। যদি জেনে থাকিস বলে দে, তা না হলে খুব সুক্ষ ভাবে তার সাথে দেখা করে চলে আসব। 

বাদ দে রেনাস। সব কিছু এখনও কাঁচা ঘা হয়ে আছে। সব কিছু শুঁকিয়ে যাক। কথাটা বুঝার চেষ্টা কর আমার। 

রেনাস মাইকেলের কথার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের হাতটা বার বার ভাঁজ করতে করতে বলে অনেক দিন হওয়ার কারণে শরীর বেশ ভালই রিকভার হয়েছে। আয় তোর গালে একটা চড় দি। ব্যাথা পাস কিনা দেখি?

মাইকেল চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে। খানিক ঠোঁট বাঁকা হাঁসি দিয়ে রেনাস কে বলে, মজা করা কখনও বন্ধ করবিনা তাইনা ?

রেনাসও ঠোঁট বাঁকা হাঁসি দিয়ে জিজ্ঞেস করে মাইকেলকে, তোর কি খুব ঘনিষ্ঠ কেও হারিয়েছে বিশ্রী ভাবে ?

আমি আমার হবু বৌকে হারিয়েছি। এটা কি কম না ?

কইদিনের সম্পর্ক সেটা ? এক বছর? দু বছর ? মাত্র সাত আট মাসের। এটা ভাল করেই জানি আমি। আর আমি আমার যৌবনের শুরুটাই করেছি সেই অদৃশ্য ভাঙ্গা মেয়েটার ছোঁয়ায়। সারা জীবনের জন্য পেতে কত তরপিয়েছি। তোর কথা মত অনেক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। কিন্তু  মাত্র কয়েক দিন পরেই আমাদের বিয়ের কথা ছিল। কাঁচ ভেঙ্গে যায় অনেক। কিন্তু কাঁচটা কত উপর থেকে আছড়ে পড়ে ভেঙ্গে গেল, সেটার উপরে নির্ভর করে ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থান। এটা শুনেছিলাম আমার এক মুসলিম ফ্রেন্ড এর কাছে থেকে। তুই কি বলতে পারবি ঠোঁটের স্বাদ কি ? তার বুকের ভাজের অংক বলতে পারবি ? পারবি কি বলতে একটা চোখের গভীরতা কত ? পারবি কি গভীর নিশ্বাস কতটা গভীর হয় বলতে ? পারবি কি বলতে হাতটা ধরতে কতটা আনন্দ লাগে?  পারবিনা মাইকেল। পারবিনা।

সেদিন তার কথার মানে টা বুঝিনি। আজ এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি। সেই ছেলেটার কাঁচ আমাকে আজকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। 

রেনাসের চোখ থেকে পানি টপ টপ করে পড়তে থাকে। সে বার বার হাত মুঠি করেই চলেছে। কষ্ট কি আর সেই মুঠির মাঝেই হারিয়ে যাবে? যাবেনা কখনও। পেয়েও হারিয়ে যাওয়ার দুঃখ সেই বুঝবে। যে  পেয়ে হারিয়েছে।   

মাইকেল এক ভাবে তাকিয়ে আছে। কি বলবে সে বুঝতে পারেনা। কোন ভাষা নেই তার। লম্বা একটা সময় সাগরের পানির আছড়ে পড়া পানির শব্দ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। 

এমন এক নীরবতা ভেঙ্গে হিনা রুমে প্রবেশ করে। রেনাস মাথা তুলে তাকিয়ে চোখের পানি মুছে নেয়। হিনা এমন নীরবতা দেখে বলে, বিরক্ত করলাম হয়ত। কিছু লাগলে ডাকবেন। 

হিনা বের হতেই পেছন থেকে রেনাস ডাক দেয়," হিনা, আগামী কাল তুমি আমার সাথে বের হচ্ছ কয়েকদিনের সমুদ্র যাত্রায়।" রেডি হয়ে থেকো। হিনা বিস্ময়কর মুখ নিয়ে প্রশ্ন করে তাঁকে , আমি ?

হ্যাঁ তুমি। এখন বিশ্রাম নাও তুমি। আপাতত আর লাগবেনা। সকালে সব নিয়ে যেও।

হিনা হাসতে হাসতে বিদায় নেয় রুম থেকে। মাইকেল তাঁকে জিজ্ঞেস করে, হিনা কেন ? তাঁকে নিয়ে কি করবি?

তার কণ্ঠে তোর নাম করে সবাইকে ডাকব। বাকিটা জেনে যাবি নিজেই। এখন একটা লম্বা ঘুম দিব। তবে সকালে যে কোন একটা জাহাজের টিকিট নিয়ে নিবি। মাল ঢালবি বেশী, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এসব হয়েই যায়। টা না হলে ম্যামের স্বামী কীভাবে যাওয়া আসা করে ? নেমে পর। জেনে যাবি। সকালে নিউজ দিবি। গুড নাইট। 

মাইকেল সত্যি ব্যবস্থা করে ফেলে। সে এসে উল্টো বলে, আরে বেটা, টাকা থাকলে পুরো জাহাজ নিয়েই যাওয়া যাবে। মাঝে তিনটা জাহাজ ভাঙ্গা লাগবে  পাঁচ দিনের যাত্রা। সেই কোম্পানি সহিসালামতে তোদেরকে পৌঁছে দিবে। 

সন্ধার জাহাজে তারা হাঙ্গেরির উদ্যেশ্যে রওয়ানা হয়। 

এক বিশাল সমুদ্র। রাতের সমুদ্র যেন একটা কালো আকাশ। যেই আকাশে ভেসে চলেছে একটা বিশাল উড়ন্ত বাহন। হিনা জীবনে এই প্রথম প্রমদতরিতে উঠেছে। জীবনে প্রথম রেনাস এরও। তবে তার মাঝে কিছু একটা খেলছে। একদম বরফের মত জমে আছে। বসে আছে জাহাজের এক কোণের করিডরের মাথায়। সমুদ্রের বাতাস। মাথাটা কিছু হালকা লাগছে। কিন্তু সেই কল্পনা ঝিম করে তুলছে মাথাটা বার বার। হিনা পাশে থাকলেও দুজনেই নিরব। কিন্তু হিনা বকবক করেই চলেছে। তার জীবনেও বহু গল্প। কিন্তু এই মুহূর্তে রেনাসের সেই গল্পের প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। মনে মনে বলেছে একবার। ফিরে আসব তো এই জাহাজেই। তখন কিছুটা হলেও তোমার দিকে মনোযোগ দিব। কিন্তু মাথায় চলছে এখন কিছু একটা। 

ইতালি হয়ে জার্মানি পৌছায় তারা। যথা সময়েই পৌঁছে গেছে।  পোর্টে নেমেই একটা গাড়ি ভাড়া করে চলতে শুরু করে সেই কয়েকশ কিলোমিটার দুরের শহরে। যেই শহরে আছে একটা গল্পের শহর। যেই গল্পের নায়কা মারা গেছে অকল্পনীয় ভাবে। সেই গল্পের কোন একটা পৃষ্ঠায় এগিয়ে চলেছে রেনাস। তারা জার্মানিতে পৌঁছেছিল বিকেলে। কিন্তু তারা শহরে না এসে সেই শহর থেকে আরও পঞ্চাশ কিলোমিটার দুরের সেই গ্রিন স্টেট এর মাঝে আসে। এটা সেই জায়গা। যেখানেই শেষ হয়ে গেছিল সব। আসতে আসতে প্রায় ভোর হয়ে যায়। বাসাটা খুব ভাল করেই চেনে রেনাস। কি করেই বা ভুলা যায়, ঠিক শেষ মুহূর্তের আগেই তো লেনা একটা মুচকি হাঁসি দিয়ে দেখিয়েছিল এই বাসাটা। কিন্তু অদ্ভুত একটা বিষয়। এটা সেই বাসাটা। যেটা ছিল স্বপ্নে। একটা তাজা বাসা লাগছে। যেন বাসায় কেও ছিল বা আছে। জানালার পর্দা ঠিক সেই ভাবেই উড়ছে। অনেক অদ্ভুত লাগে রেনাসের কাছে। 

দরজা যখন খুলতে যাবে তখন হিনা বলে উঠে, আপনি কি এখানেই থাকেন ? বাসাটা কিন্তু বাহির থেকেই অনেক সুন্দর। ভেতরটা তাহলে আরও সুন্দর হবে।

রেনাস তার কোথায় কান না দিয়ে যখনি দরজার লকে হাত দিবে। তখনি একটা অটোম্যাটিক ভয়েস ভেসে আসে। আরও অবাক হয়ে যায় রেনাস। এটা অটোম্যাটিক ইলেকট্রিক ডোর। যেটা কিনা রেনাসের হাতের স্পর্শেই খুলে গেল। ম্যাম কত বড় যে সারপ্রাইজ রেখেছে আসলে। এখন বুঝা যাচ্ছে কিছুটা। 

গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই উপর থেকে শুঁকনো গোলাপের পাপড়ি ঝরে পড়ে। আহ, পাপড়ি গুলো শুঁকিয়ে গেছে। ম্যাম এসব ব্যবস্থা করে রেখেছিল সেই দিনের সেই মুহূর্তের জন্য। কিন্তু সময়ের সাথে সব কিছুই শুঁকিয়ে গেছে। রেনাস আর হিনা ভেতরে ঢুকতেই দরজা লক হয়ে যায়। ঠিক সেই স্বপ্নের মত। সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই দেখে সারা সিঁড়িতে শুঁকনো গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে আছে। হয়ত স্বপ্নের মত এখন ম্যাম আচমকা সামনে এসে দাঁড়াবেনা। 

এসব দেখে হিনা জিজ্ঞেস করে, কোন অনুষ্ঠান ছিল নাকি লাস্ট দিনে ? 

রেনাস উঠতে উঠতে বলে, হয়ত ছিল। 

রুমের দরজা খোলাই ছিল। রুমে ঢুকে তারা দেখে যে সব মোমবাতি গলে শেষ হয়ে গেছে। টেবিল চুয়ে চুয়ে গলে পড়েছে মোমের তরল। 

রেনাসের মনে পড়ে যে ম্যাম শেষ সময়ে বলেছিল যে, এই বাড়ির একটা রহস্য খুলবে নিল আলো দিয়ে। সব বুঝা গেলেও রেনাস এটা বুঝতে পারে না যে, সে এই বাড়িতে আগে কখনও আসেনি। কিন্তু এই বাড়ির প্রত্যেকটা কণা যেন সে সপ্নতে দেখেছে। রুমের সোফা থেকে শুরু করে ফ্রিজ পর্যন্ত। 

রেনাসের মন ক্লান্ত হয়ে সে বসে পড়ে সোফাতে। সে পাশের রুমের দিকে ইশারা করে হিনাকে বলে, তুমি অই রুমটা ব্যবহার করতে পারো। সকালে কথা হবে তোমার সাথে। 

হিনা হাঁসি দিয়ে সেই রুমে চলে যায়। দরজা লাগিয়ে দেয় হিনা। আর সোফাতে বসে বসে ভাবতে থাকে রেনাস। স্বপ্নটা যেন একটা চাবি। এই সময়ে এটা ছাড়া অন্য কিছু মনেই হচ্ছেনা। হতে পারে এই বাড়ির সব কিছু স্বপ্নে দেখাতাও একটা কাকতালীয় ব্যাপার মাত্র। জীবনে বহুবার হয়েছে এমনটা। কিন্তু এবার হয়েছে একটু ব্যাতিক্রম। কারণ এসব ছিল একদম বিস্তারিত। 

রেনাস সোফা থেকে উঠতেই হিনা দরজা খুলে বের হয় একটা নাইটি পরিহিত অবস্থায়। রেনাস পেছনে ঘুরতেই দেখে যে তার হাতে অনেক পুরনো একটা ডাইরি। হিনা কাছে এসে বলে, এই ডাইরিটা বিছানার উপরেই ছিল। আর ডাইরির উপরে এই কলম। আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। সেই ছোট থাকতে এই লেজার লাইটের কলম দিয়ে খেলতাম আমরা।

রেনাসের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সে কলম আর ডাইরিটা নিয়ে বলে, কলমে লাইট জ্বলে ?

হ্যাঁ, চিনেন না এটা ?

কোন দিকে ? কীভাবে ?

হিনা একটা পিন টিপে রেনাস কে অবাক করে দেয়। এটা যেন সেই স্পাইদের গোপন জাদুর কলম। যেই কলমের লেখা শুধু এই কলমে লাইটেই বুঝা যাবে। 

কলমটা হাতে নিয়ে রেনাস ধীরে ধীরে এক পা দু পা করে সেই রুমের ভেতরে ঢুকে। ঠিক সেই রকম দেখতে। যেমনটা দেখতে ছিল। পাশেই একটা কাপড়ের আলমারি। খুলতে ইচ্ছা করছিলনা যদিও সেটা। বামে তাকাতেই সেই বাথরুমটা চোখে পড়ে। যেই বাথরুমের ভেতরে ম্যামের অবয়ব ঢুকে গিয়েছিল। রেনাস কিছুটা এগিয়ে গিয়ে সেটার দরজা খুলে। কিন্তু যখন সুইচ দেয়, বাথরুমের লাইট আর জ্বলে না। রেনাস তখন হাতের কলমের লাইটটাই জ্বালিয়ে ভেতরে ঢুকে। ভেতরে ঢুকতেই কলমের লাইটের আলোতে একটা লেখা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল। লেখাটা ছিল," এই দাগের উপরের কার্নিশে তোমার জন্য গিফট আছে।" আশা করি সেটা মেনে নিবে। 

ব্যাপারটা রেনাসের কাছে অনেক কৌতূহল লাগে। ম্যাম কি তাহলে এই নিল আলোর রহস্যের কথা বলেছিল? 

রেনাস কলমের লাইটটা হীনার হাতে ধরিয়ে সে উপর থেকে একটা মোটা খাম নামিয়ে আনে। বেশ অবাক লাগে তার কাছে। কি বা আছে এর ভেতরে?


#চলবে...................

এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন...

এরকম আরও কিছু প্রশ্ন

0 টি উত্তর
1 টি উত্তর
12 সেপ্টেম্বর, 2021 "জীব বিজ্ঞান" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন Abtar Hossain
1 টি উত্তর
25 আগস্ট, 2021 "জীব বিজ্ঞান" বিভাগে প্রশ্ন করেছেন ওলিউল্লাহ

34,188 টি প্রশ্ন

33,101 টি উত্তর

1,601 টি মন্তব্য

3,273 জন সদস্য

Ask Answers সাইটে আপনাকে সুস্বাগতম! এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করতে পারবেন ৷ আর অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে অবদান রাখতে পারবেন ৷
12 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য, 12 জন অতিথি
আজকে ভিজিট : 4805
গতকাল ভিজিট : 36086
সর্বমোট ভিজিট : 45768206
  1. Kuddus

    70 পয়েন্ট

    14 টি উত্তর

    0 টি গ্রশ্ন

  2. মোছালামিয়া

    51 পয়েন্ট

    0 টি উত্তর

    1 টি গ্রশ্ন

  3. শালিক

    50 পয়েন্ট

    0 টি উত্তর

    0 টি গ্রশ্ন

  4. Jibon999

    50 পয়েন্ট

    0 টি উত্তর

    0 টি গ্রশ্ন

  5. ajb

    50 পয়েন্ট

    0 টি উত্তর

    0 টি গ্রশ্ন

এখানে প্রকাশিত সকল প্রশ্ন ও উত্তরের দায়ভার কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর৷ কোন প্রকার আইনি সমস্যা Ask Answers কর্তৃপক্ষ বহন করবে না৷
আজ বঙ্গাব্দ৷
...